পাইকারিতে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও প্রভাব নেই খুচরায়

পাইকারি বাজারে নির্ধারিত দামের তুলনায় কমে বেচাকেনা হচ্ছে ভোজ্যতেল। কিন্তু খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই।

পাইকারি বাজারে নির্ধারিত দামের তুলনায় কমে বেচাকেনা হচ্ছে ভোজ্যতেল। কিন্তু খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। আগের দামেই সয়াবিন ও পাম অয়েল কিনছেন সাধারণ ক্রেতারা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরার পার্থক্য বজায় রাখা না গেলে দামে অসমতা দেখা দেবে। ফলে সামনের দিনগুলোয় আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে ভোজ্যতেলের বাজার।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে টানা বুকিং দর কমে যাওয়ায় দেশের পাইকারি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ৯ ডিসেম্বর দাম পুনর্নির্ধারণের পর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিনের দাম কমেছে মণে (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) প্রায় ৫০০ টাকা। এ সময় পাম অয়েলের দাম কমেছে মণপ্রতি ৫০০ টাকা।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, গতকাল এখানে পাইকারিতে প্রতি মণ পাম অয়েল লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৮৩০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগেও যা ছিল ৬ হাজার ৩৫০ টাকা। এছাড়া এ সময় মণপ্রতি সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ২৫০ টাকায়। গত ৯ ডিসেম্বরের আগে যা ছিল ৬ হাজার ৭৫০ থেকে ৬ হাজার ৮০০ টাকা।

খাতুনগঞ্জে খুচরায় প্রতি কেজি পাম অয়েল এখন কেজিতে ১৮২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়। সাধারণ ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ চেইনে ঘাটতির পাশাপাশি আগের বাড়তি দামে কেনা ভোজ্যতেলের মজুদ এখনো আছে। তাই টানা দরপতনের পরও খুচরা বাজারে দাম কমছে না।

খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মিল মালিকরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে যে দাম নির্ধারণ করেছেন তা থেকেও অনেক কম দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে। নতুন দাম নির্ধারণের পর বাড়তি দামে মিলগুলো বাজারে এসও বিক্রি করেছে। খুচরা বাজারে আগের দামেই পাম অয়েল ও সয়াবিন লেনদেন হচ্ছে।’

বাজারসংশ্লিষ্টরা আরো জানান, দেশজুড়ে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় খুচরায় পাম অয়েলের চাহিদা কিছুটা কম। এ কারণে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিনের চাহিদা বেড়েছে। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পাম অয়েল। পাম অয়েলের চাহিদা কমায় সার্বিক ভোজ্যতেলের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে পাম অয়েল ও সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা হারে বাড়ানোর কারণে আগের দামেই এখনো খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

এদিকে বিশ্ববাজারে কিছুদিন আগে অপরিশোধিত পাম অয়েলের বুকিং দর ধারাবাহিকভাবে বেড়েছিল। সে সময়ে পাম অয়েলের টনপ্রতি দাম বেড়ে ৫ হাজার ৫০০ রিঙ্গিতের কাছাকাছি পৌঁছে। যদিও দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তা আবার কমে ৪ হাজার ৫০০ রিঙ্গিতে নেমে এসেছে। পাম অয়েলের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দামও কমেছে।

আরও